News Trends of India

কেন উনি পশুপ্রেমী হবেন! জানোয়ার প্রেমী না হয়ে।

Share:
কেন উনি পশুপ্রেমী হবেন! জানোয়ার প্রেমী না হয়ে।

কোচবিহারের পুলিশ সুপার দ্যুতিমান ভট্টাচার্য। একটা মানুষের যতগুলো বদগুন বা আরোও ভালো করে বললে বাজে গুন থাকা দরকার এই মানুষটির সবটা রয়েছে ! সেই পুলিশ অফিসার ‘নাবালক’ ছেলেদের ‘মদ্যপ’ অবস্থায় মারধর করবেন এটাই তো স্বাভাবিক। এমনকি মহিলাদেরও মারতে দ্বিধা করবেন না।

এত ‘বদগুন’ থাকা একজন মানুষ রাত প্রায় ১টা নাগাদ তার বাংলোর পাশে বাজি ফাটানোর জন্য ব্যবস্থা নিয়েছেন সেটা অপরাধ নয়! তার পরে আবার ‘নাবালক’!

আচ্ছা আমাদের সংবিধানের কোন ধারা,উপধারায় লেখা রয়েছে বলতে পারেন, নাবালক কোন অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারা যাবে না! আইনে একটা বিষয় অবশ্য বলা হয়েছে, ‘অপরাধ প্রবণতা ও তার ধরণ দেখে বিচারক একজন নাবালক কে স​ংশোধিত হবার সুযোগ দিতেই পারেন।’ কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবি সুপ্রিয় সামন্ত বলেন, ‘সারাাদিন ধরেই আমরা কোচবিহারের পুলিশ সুপারের বাংলোর পাশে ফাটানোর বিষয়টি দেখেছি।

প্রথমেই আমার যেটা মনে হয়েছে, যে মহিলা নিজেকে আইনজীবি পরিচয় দিয়ে এই ঘটনায় অপরাধীদের নাবালক বলে তাদের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন, তার লাইসেন্স বাতিল করা উচিতয় একজন আইনজীবির, কখনোই আইনের বিরুদ্ধে গিয়ে কথা বলা উচিত নয়। সরকার যখন রাত ১০টার পরে বাজি ফাটানোয় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সেখানে কেন রাত ১ টারর সময়ে বাজি ফাটছিলো? শুনলাম উনি বলছেন, এসে শাসন করতে পারতো। সেটাইতো করেছে। এতে অপরাধ কি হয়েছে? আর যেখানে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে পরিস্কার দেখা যাচ্ছে কিভাবে বাজি ফাটানো হচ্ছে।’ কোচবিহারের গীতলদহ আতিয়াবাড়ির বাসিন্দা পেশায় শিক্ষক অমল কুমার সরকার বলেন, ‘এই ঘটনা নিন্দনীয়। পুলিশ সুপার কে আমরা অনেকেই চিনি। ওনার মতন শিক্ষিত, শিল্প-সংস্কৃতির মানুষ আমাদের এখানে আগে আসেনি। আর উনি মারধর করবেন এটা বিশ্বাস যোগ্য নয়। আর যদি করেও থাকে পুলিশ মারধর তবে বেশ করেছে। রাত ১টায় শব্দ বাজি ফাটাবে কেন। আর নাবালক বলে যাদের বলা হচ্ছে তারা কি সত্যিই তাই! তাহলে তাদের অভিভাবকদের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নিক। কেন মধ্যরাতে নাবালক-রা রাস্তায় ঘুরে বেড়াবে।’ বড় আতিয়াবাড়ি(পূর্ব)-র বাসিন্দা অলোক বিশ্বাস বলেন, ‘সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখুন কিভাবে রাত প্রায় ১ টা নাগাদ বাজি ফাটানো হচ্ছে। পুলিশ তারপরে ব্যবস্থা নিয়েছে সেটা অপরাধ কিসের। পুলিশ গিয়ে মারধর করেছে সেটা বেশ করেছে। পুলিশ এই মারধর বন্ধ করে বন্ধু হতে গিয়েই বিপদ বাড়িয়েছে। পুলিশ যদি মারধর করে থাকে তাহলে বেশ করেছে। রাতের বেলায় আপনার আনন্দের নামে আপনি অন্যদের কষ্ট দেবেন সেটা হওয়া উচিত নয়।’

এখনো অবধি বিভিন্ন চিরিয়াখানায় বেশ কিছু পশু পাখি কে দত্তক নিয়েছেন। আচ্ছা বলুন তো মানুষের বাচ্চাদের দত্তক না নিয়ে উনি পশুদের বাচ্চাদের দত্তক নিচ্ছেন। তাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করার জন্য টাকা খরচ করছেন। এটা কি ঠিক কাজ! উনি গভীর রাতে কিছু মদ্যপ, অসভ্য বেয়াদপ ‘নাবালক’ ছেলে তার সন্তানসম কুকুরদের বিরক্ত করার জন্য, তাদের ভয় দেখানোর জন্য নিজের নিরাপত্তা রক্ষীদের পাঠিয়ে শুধু বলেছিলেন সরে যেতে। সেটা তারা করেনি। ওনার উচিত ছিলো ওই ‘নাবালক’দের কোলে করে এনে নিজের বাংলোয় বসিয়ে বলা, ‘বাবারা তোমরা বাজি ফাটাও। আমি দেখব।’

Manash Biswas

Manash Biswas

কেন উনি পশুপ্রেমী হবেন! জানোয়ার প্রেমী না হয়ে।