
এই ইস্যুতে আমেরিকা ও ন্যাটোকে ইতিমধ্যেই জবাব দিয়েছে ভারত।
‘রুশ প্রেমের বিরাট মূল্য চোকাতে হবে ভারতকে। ধ্বংস করে দেওয়া হবে ভারতের অর্থনীতি।’ কড়া সুরে এমনই হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। তাঁর হুঁশিয়ারি রাশিয়া থেকে যারা তেল কিনছে, সেই ভারত-সহ বাকি দেশগুলির উপর শীঘ্রই বিরাট অঙ্কের শুল্ক চাপাতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী গ্রাহাম বলেন, ”ট্রাম্প সেই দেশগুলির উপর বিরাট পরিমাণ শুল্ক চাপাতে চলেছেন যারা রাশিয়ার থেকে তেল কিনছে।” এই বিষয়ে সরাসরি ভারত, চিন ও ব্রাজিলের নাম নেন তিনি। তাঁর কথায়, “রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার তেল কিনে তাদের লাগাতার অর্থের যোগান দেওয়ার শাস্তি স্বরূপ এদের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হবে। তোমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা এতটাই খারাপ করে দেওয়া হবে যে কখনও মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। কারণ তোমরা যেটা করছ সেটাকে ব্লাড মানি বলে। সময় এসেছে কাউকে বেছে নেওয়ার। ভারত, চিন ও ব্রাজিল আমেরিকার অর্থনীতিকে বেছে নেবে নাকি পুতিনকে সাহায্য করে যাবে। আমার মনে হয় ওরা মার্কিন অর্থনীতিকেই বেছে নেবে।”
যদিও ভারতের কাছে এই হুমকি প্রথমবার নয়, সম্প্রতি একইরকম হুমকি দিয়েছিলেন ন্যাটো প্রধান মার্ক রুট। তিন দেশের নাম করে রুট বলেন, “ভারতের প্রধানমন্ত্রী, চিনের প্রেসিডেন্ট ও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট, আপনারা যদি রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যান, ওদের থেকে তেল ও গ্যাস কেনেন সেক্ষেত্রে আপনাদের উপর ১০০ শতাংশ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে। আপনারা জানেন মস্কোর ওই ব্যক্তি (ভ্লাদিমির পুতিন) কোনও রকম শান্তি আলোচনাকে গুরুত্ব সরকারে নেন না।” একইসঙ্গে এই তিন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের উদ্দেশে পুতিনকে শান্তি আলোচনার জন্য তার উপর চাপ বাড়ানোর বার্তা দিয়ে রুট বলেন, “দয়া করে ভ্লাদিমির পুতিনকে ফোন করুন এবং তাঁকে বলুন যে তাঁকে শান্তি আলোচনার বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে কাজ করতে হবে। অন্যথায় এই নিষেধাজ্ঞা ব্রাজিল, ভারত এবং চিনের উপর ব্যাপকভাবে আঘাত হানবে।”
তবে ভারত দেশের স্বার্থে কোনও হুমকির কাছে মাথা নত করবে না সে বার্তা দিয়ে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, “এই বিষয়ে একাধিক রিপোর্ট আমাদের নজরে এসেছে। আগামী দিনে এই ইস্যুতে কী কী ঘটে, সেদিকেও লক্ষ্য রাখছি। তবে একটা কথা মনে করিয়ে দিতে চাই, আমাদের দেশের স্বার্থ ও দেশবাসীর জন্য শক্তির জোগানের ব্যবস্থা সুরক্ষিত করাটা অবশ্যই আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়ে আমরা সবসময়ে দেখব তৎকালীন আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে বাজারের কেমন অবস্থা। তবে আমরা সতর্ক করে দিতে চাই, এই ইস্যুতে কোনওরকম দ্বিচারিতা যেন না হয়।”