
গ্রেটার নয়ডা, উত্তরপ্রদেশ:
গ্রেটার নয়ডা বঙ্গীয় সমাজের প্রথম দুর্গাপূজা সপ্তমীতে পৌঁছে গেল এক উজ্জ্বল নতুন অধ্যায়ে। ভক্তি, ভোগ আর সঙ্গীতের সমন্বয়ে তৈরি হলো এক স্মরণীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব।
কোলাবউ স্নান (নবপত্রিকা) আচার
দিনের সূচনা হয়েছিল পবিত্র কোলাবউ স্নান (নবপত্রিকা) আচার দিয়ে, যা সম্পন্ন হয়েছিল বেলুড় মঠের নিয়ম কঠোরভাবে মেনে। ভোর থেকে ভক্তরা সমবেত হন এই আচার প্রত্যক্ষ করতে। নবপত্রিকার স্নান ও পূজার মাধ্যমে সপ্তমীর আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে। মণ্ডপজুড়ে মন্ত্রোচ্চারণে ভরে ওঠে আধ্যাত্মিকতা আর ভক্তির আবহ।
ভোগ: বাঙালির ঐতিহ্যের স্বাদ
দুপুরে আয়োজকরা পরিবেশন করেন ভোগ, যা দুর্গোৎসবের এক অনন্য বাঙালি বৈশিষ্ট্য। শত শত ভক্ত দীর্ঘ সারিতে বসে উপভোগ করেন খিচুড়ি, লাবড়া, চাটনি ও পায়েশ। এই ভোগ শুধুই খাবার নয়, এটি একাত্মতার এক অভিজ্ঞতা—যা বাঙালির আত্মাকে এনে দিল গ্রেটার নয়ডায়।





সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ও লাইভ ব্যান্ড
সন্ধ্যা নামতেই প্যান্ডেল রূপ নেয় এক সাংস্কৃতিক অঙ্গনে। সঙ্গীত, নৃত্য ও আবৃত্তিতে জমে ওঠে অনুষ্ঠান। তবে বিশেষ আকর্ষণ ছিল ‘সমন্তক অ্যান্ড মেটস’-এর লাইভ ব্যান্ড পারফরম্যান্স। তাদের প্রাণবন্ত গান ও ছন্দে মুগ্ধ দর্শকরা হাততালি আর গানে যোগ দিয়ে মাতিয়ে তোলেন সমগ্র পরিবেশ।






আচার ও আধুনিকতার সমন্বয়
এই সপ্তমী প্রকাশ করল দুর্গোৎসবের প্রকৃত সত্তা—ভক্তি, ঐতিহ্য ও আনন্দের এক অখণ্ড মেলবন্ধন। সকালের পবিত্র আচার ও ভোগ থেকে শুরু করে সন্ধ্যার সাংস্কৃতিক পরিবেশনা—গ্রেটার নয়ডা বঙ্গীয় সমাজের প্রথম দুর্গোৎসব হয়ে উঠল শুধু আধ্যাত্মিক উন্মেষ নয়, সামাজিক ঐক্যেরও প্রতীক।