
Red to return, Mamni takes control
NTOI ডেস্ক : শহরের পাশেই রয়েছে, বর্ধমান উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র। পঞ্চায়েত এলাকা হলেও এই বিধানসভা কেন্দ্রের বৈকুণ্ঠপুর-১, ২. রায়ান, বেলকাশ পঞ্চায়েত এলাকার গ্রামগুলি শহরকেও টেক্কা দেয়। গ্রামীণ এলাকায় মাথা তুলেছে বহুতল। বিভিন্ন নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি এবং অনাময়ের মতো সরকারি হাসপাতাল সবই রয়েছে এই বিধানসভা কেন্দ্রে। ঝাঁ চকচকে রাস্তা, পর্যাপ্ত পানীয় জলও মিলছে। এই উন্নয়নমূলক কাজগুলি তুলে ধরে এবারও বাজিমাত করতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। সিপিএম লড়াকু প্রার্থী মামনি মণ্ডল রায়কে সামনে রেখে নিজেদের ভোট ফেরাতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।
মামনি বিউটি পার্লারে কাজ করেন। প্রচারের জন্য এক মাস ছুটি নিয়েছেন। তবে ভোট ময়দানে এর আগেও তিনি নেমেছেন। রায়ান-১ পঞ্চায়েতে তিনবার লড়াই করেছেন। সাফল্য না এলেও হাল ছাড়েননি। মামনি বলছেন, যাঁরা বামপন্থায় বিশ্বাস করেন তাঁরা হাল ছাড়েন না। মানুষের বাড়িতে বাড়িতে যাচ্ছি। তাঁদের সমস্যার কথা শুনছি। শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা ঘরে বসে রয়েছে। কর্মসংস্থান নেই। আবার কেন্দ্রীয় সরকার ১০০দিনের কাজ বন্ধ করে দিয়ে মানুষকে বিপাকে ফেলে দিয়েছে। এলাকায় ঘুরে আমরা বলছি, একমাত্র বামপন্থাই পারে মানুষকে সঠিক দিশা দেখাতে। মানুষ আমাদের বিশ্বাস করছেন। সেকারণেই প্রচারে ঢল নামছে।তৃণমূল বা সিপিএম কোমর বেঁধে ময়দানে নামলেও বিজেপির প্রচারে সেই ঝাঁঝ নেই। সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নেতাকেই দল প্রার্থী করেছে। তিনি প্রচারও শুরু করেছেন। কিন্তু দলের কর্মীরাই তাতে সন্তষ্ট নয়। বিজেপি প্রার্থী সঞ্জষ দাস প্রচারে বেরিয়ে তৃণমূলের দুর্নীতির কথা তুলে ধরছেন। স্থানীয় শাসকদলের নেতারা কীভাবে ‘মাতবরি’ করছেন সেটা তুলে ধরেও বিজেপি তৃণমূলকে বিধছে।

এই বিধানসভা কেন্দ্রে ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূলের নিশীথকুমার মালিক ৪৫.৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। বিজেপির ভোট ছিল ৩৮.৮৩ শতাংশ। সিপিএমের ভোট ৪২.১২ শতাংশ থেকে ১২.৮৩ শতাংশে নেমে আসে। আগের সেই ভোট ফেরাতেই বামেরা কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে। বর্ধমান উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী নিশীথকুমার মালিক বলেন, উন্নয়নের ডালি নিয়েই আমরা মানুষের কাছে যাচ্ছি। বিধায়ক তহবিলের টাকাতেও অনেক কাজ হয়েছে। অনাময় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ঠান্ডা পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় পথবাতি বসানো হয়েছে। রাস্তা সংস্কারের কাজও ব্যাপক হয়েছে। এছাড়া এই এলাকার বহু মানুষ রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে প্রশ্ন নেই। কিন্তু তৃণমূলের কয়েকজন স্থানীয় নেতা বারবার দলকে বিপাকে ফেলেছে। তাদের লাগামে টান দিলে এই এলাকার মানুষের আর তেমন কোনও অভিযোগ থাকবে। না।
