News Trends of India

ঘোষ বাড়ির দুর্গোৎসব: ৩৭০ বছরেরও বেশি ঐতিহ্যের সাক্ষী পূর্ব বর্ধমান

Share:
ঘোষ বাড়ির দুর্গোৎসব: ৩৭০ বছরেরও বেশি ঐতিহ্যের সাক্ষী পূর্ব বর্ধমান

উদয়পুর, সিঙ্গেরকোণ, বর্ধমান – ৭১৩১২২:
পূর্ব বর্ধমানের অন্তরে রয়েছে বাংলার প্রাচীনতম দুর্গোৎসবগুলির একটি—ঘোষ বাড়ির দুর্গাপূজা। প্রমাণিত ইতিহাসে এর বয়স ৩৭০ বছরেরও বেশি, তবে স্থানীয়দের বিশ্বাস, এরও বহু আগেই এই পূজা শুরু হয়েছিল। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে উত্তরাধিকার সূত্রে এগিয়ে আসা এই পূজা আজও সমান ভক্তি, ঐতিহ্য ও সামাজিক আনন্দে পালিত হয়।


নবমীতে কুমারী পূজা – ব্যতিক্রমী ঐতিহ্য

বাংলার অধিকাংশ দুর্গাপূজায় কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয় অষ্টমীতে। কিন্তু ঘোষ বাড়িতে এই বিশেষ আচার পালিত হয় নবমীতে। অল্পবয়সী কন্যাকে জীবন্ত দেবীরূপে পূজা করার এই আচার পূজায় আনে এক অনন্য গাম্ভীর্য ও শ্রদ্ধা।


অষ্টমীর নবরূপী নবান্ন – আনন্দময় উত্তরাধিকার

অষ্টমীতে পালিত হয় আরেক অনন্য আচার। মণ্ডপের ভেতরে বিশেষ স্থানে বাঁধা হয় নবপত্রিকা (ন’টি ফল)। শিশুদের আহ্বান জানানো হয় যেন তারা কোনও সহায়তা ছাড়াই ফলগুলি সংগ্রহ করে। এই খেলার মধ্য দিয়ে পূজার ভক্তি আর আনন্দ মিলে যায় একসঙ্গে।


দশমীর দধি কাদা – কাদামাটির নৃত্য ঢাকের তালে

সবচেয়ে আকর্ষণীয় আচার পালিত হয় দশমীতে, যার নাম দধি কাদা। পুকুরের জল এনে মণ্ডপের ভেতরে তৈরি করা হয় কাদামাটি। আর সেই কাদার ওপর ঢাকের তালে মানুষ নাচেন খালি পায়ে। এই আচার শুধু আনন্দই নয়, মিশে থাকে দেবী মহিষাসুরমর্দিনীর জয়ের প্রতীকী বার্তাও।


ব্যতিক্রম – সিঁদুরখেলা নয়, কাঁধে করে বিসর্জন

বাংলার অধিকাংশ পূজায় দশমীতে সিঁদুরখেলা অনুষ্ঠিত হলেও, ঘোষ বাড়ির দুর্গোৎসবে এই আচার পালিত হয় না। বরং এখানে বিশেষ রীতি হলো—প্রতিমা বিসর্জন করা হয় মানুষের কাঁধে করে। গাড়ি বা অন্য বাহন নয়, ভক্তদের কাঁধই হয় দেবীকে বিদায় জানানোর বাহন। এতে প্রকাশ পায় ভক্তি, সরলতা ও ঐক্যের এক অসাধারণ প্রতীক।


বাংলার জীবন্ত ঐতিহ্য

পূর্ব বর্ধমানের প্রাচীনতম দুর্গোৎসবগুলির অন্যতম ঘোষ বাড়ির পূজা আজও বাঁচিয়ে রেখেছে বাংলার চিরন্তন ঐতিহ্য। নবমীতে কুমারী পূজা, অষ্টমীতে নবপত্রিকা খেলা, দশমীর দাদিকাদা আর কাঁধে প্রতিমা বিসর্জন—এইসব অনন্য রীতিই এই পূজাকে আলাদা করেছে বাংলার হাজারো দুর্গোৎসবের ভিড় থেকে।

৩৭০ বছরেরও বেশি ইতিহাস বহন করা এই পূজা আজও বলে দেয়—দুর্গোৎসব কেবল উৎসব নয়, এটি বাংলার জীবন্ত ঐতিহ্যের এক অমূল্য অংশ।

admin

admin